১টি ওয়েবসাইট থেকে কিভাবে মাসে ৩০ হাজার টাকা ইনকাম করবেন?

একটি ওয়েবসাইট দিয়ে মাসে ৩০ হাজার ইনকাম করা যায়

যারা ফ্রীল্যান্সিং কেবল মাত্র শুরু করেছেন / করতে যাচ্ছেন অথবা যাদের ফ্রীল্যান্সিং সম্পর্কে সামান্য ধারনা আছে, অথবা ভবিষ্যতে ফ্রীল্যান্সিং করবেন আবার এমন অনেকেই আছেন যারা একটি ওয়েবসাইড দিয়ে কিভাবে ইনকাম করবেন- সেটা জানার বা বোঝার ভিশন ইচ্ছা থাকে। এই আর্টিকেল টি তাদের জন্য।

তো, চলুন আজ আপনাদেরকে জানিয়ে দেই কিভাবে একটি ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করা যায়? যারা আমার ওয়েবসাইটে প্রথম এসেছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই আমার লেখা আর্টিকেল টি ভালোভাবে বোঝার জন্য মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

প্রতীকী চিত্রঃ সম্পুর্ন আরটিকেল-টি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন

এই আর্টিকেল পড়ে আপনাদের মনে কোনো প্রশ্ন আসলে আমাকে কমেন্ট করে জানাবেন। আমি অবশ্যই আপনাদের প্রশ্নের উত্তর দিবো। আর যারা আমাকে চিনেন তাদের উদ্দেশে বলবো, অনলাইন সেক্টরে নতুন এবং ফ্রীল্যান্সিং এ দিন দিন আগ্রহী হয়ে ওঠছে এমন আপনার পরিচিত / অপরিচিত কেউ থাকলে তাদের কাছে আমার এই লেখা আর্টিকেল টি অবশ্যই শেয়ার করে তাদেরকে জানার সুযোগ করে দিন। যেন তারা এই সেক্টরে আসার আগে অবশ্যই ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে সঠিক কিছু তথ্য বা ধারণা নিতে পারে।

তো, আজকে আমরা জানবো কিভাবে একটি ওয়েবসাইট থেকে হাজার হাজার টাকা ইনকাম করা যায়।
শুরুতেই আমরা একটু জেনে আসি যে ওয়েবসাইট কত ধরনের হয়ে থাকে।

ওয়েবসাইট মূলত তিন ধরণের হয়। যেমন –

১. প্রোডাক্ট বেস ওয়েবসাইট

২. সার্ভিস বেস ওয়েবসাইট

৩. ইনফরমেশন বেস ওয়েবসাইট

১. প্রোডাক্ট বেস ওয়েবসাইট :

এই ওয়েবসাইড গুলো কারা ব্যবহার করে থাকেন? যাদের নিজস্ব বা কিনা কোনো প্রোডাক্ট আছে এবং অনলাইনে সেই প্রোডাক্ট গুলো সেল করতে চান তারাই মূলত এই প্রোডাক্ট বেস ওয়েবসাইট গুলো ব্যবহার করে থাকে। এবং এই প্রোডাক্ট গুলোর সেল জেনারেট করার মাধ্যমে মূলত তাদের ইনকাম টি আসে। খুব স্বাভাবিক ভাবে প্রোডাক্ট থাকলে সেল আসবেই আর সেল আসলে কমবেশি ইনকাম হবেই।

২. সার্ভিস বেস ওয়েবসাইট:

যারা লোকালি বা ইন্টারন্যাশনালি বিভিন্ন গ্রাহকে এক বা একাধিক সেবা প্রদান করতে সক্ষম তারাই মূলত সার্ভিস রিলেটেড ওয়েবসাইট
গুলো ব্যবহার করে অনলাইন থাকে আয় করেন। যেমন – এয়ারটিকেট সার্ভিস, কন্সাল্টেন্সী সার্ভিস, ট্রেনিং সার্ভিস,বাসাবাড়ির ইলেকট্রিক বেয়ারিং সার্ভিস,হোম ডেলিভারি সার্ভিস,প্যাথোলজিক্যাল সার্ভিস ইত্যাদি আরো অনেক ধরণের সার্ভিস হতে পারে।
তবে, আজ আমরা প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিস রিলেটেড ওয়েবসাইট দিয়ে ইনকাম এর কথা আলোচনা করবোনা। যে ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে খরচ কম সেটা দিয়ে কিভাবে ইনকাম করা যায় সেই বিষয়ে কথা বলবো। আর সেটা হচ্ছে তিন নম্বর পয়েন্ট টি।

৩. ইনফরমেশন বেস ওয়েবসাইট:

এই ওয়েবসাইট টি তৈরি করে অল্প পুজি দিয়ে হাজার হাজার টাকা ইনকাম করা সম্ভব। ইনফরমেশন ওয়েবসাইট টি করা তৈরি করে? যাদের প্রোডাক্ট বা সার্ভিস রিলেটেড ওয়েবসাইড তৈরি করার সামর্থ নেই এবং বাড়তি কোনো টাকা পয়সা ইনভেস্ট করারও চিন্তা ভাবনা করছেন না তারাই মূলত ছোট বড় বিভিন্ন ধরনের ইনফরমেশন বেস ওয়েবসাইট গুলো তৈরি করে থাকেন। এবং এটা দিয়েই আপনারা ভালো মানের একটা ইনকাম জেনারেট করতে পারবেন।

মনে করুন, আপনি নির্দিষ্ট কোনো একটি ক্যাটাগরি অথবা নিস্ এর উপর একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন এবং সেই নিস্ এর উপর আপনার ওয়েবসাইট টিকে এমন ভাবে সাজিয়েছেন যেন কেউ ওয়েবসাইট টির ভিতরে আসলে আপনার দেয়া চমৎকার চমৎকার সব ইনফরমেটিভ তথ্য দেখে মুগ্ধ হবেন এবং আপনার এসব তথ্যপূর্ণ পোস্ট গুলো দেখতেই প্রতিদিন ৪০/৫০ হাজার পাঠক আপনার ওয়েবসাইট টিতে ভিসিট করবে। ব্যাস, তাহলে এবার আপনার ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম আসা শুরু হয়ে যাবে। এবার কিভাবে ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করবেন সরাসরি সেই প্রসঙ্গে আসি। যখন প্রতিদিন আপনার ওয়েবসাইটিতে ৪০/৫০ হাজার ভিজিটর বা ট্রাফিক আসবে তখনই মোটামোটি ৩/৪ টি উপায়ে আপনার ওই ওয়েবসাইট থেকে আপনি ইনকাম করতে পারবেন।

উপায়গুলো হলোঃ

বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কিভাবে ইনকাম করবেন ?

নিয়মিত আপনার ওয়েবসাইটে আসা ট্রাফিক গুলোর ডাটা রিপোর্ট কালেকশন করে আপনি বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষদ্র ক্ষদ্র প্রতিষ্ঠান যেমন নতুন কোন চানাচুর কম্পানি, অনলাইনে টিকেট বিক্রেতা, লোকাল কোনো ডেন্টিস্ট, লোকাল ক্লিনিক, মেডিকেল কোচিং, ফার্নিচার বিক্রেতা, কম্পিউটার সার্ভিস সেন্টার, ইন্টারনেট প্রোভাইডার, লোকাল ডেকোরেটর, ডিজিটাল ষ্টুডিও, অপটিক্যাল শপ, রেস্টুরেন্ট সহ নানান পণ্য বিক্রেতা অথবা বিভিন্ন এনজিও যেমন ক্ষদ্র ঋণ উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে যারা কাজ করেন ইন্সোরেন্স কোম্পানি, ডেভলোপার ফার্ম, সার বিষ কোম্পানি, বেকারি শপ ইত্যাদি কোম্পানির কাছে আপনি বিজ্ঞাপনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। সঠিক ভাবে প্রপোজাল বা ভালো মার্কেটিং কৌশল অবলম্বন করে আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইট এর জন্য সর্ব নিম্ন ১০ টি কোম্পানি থেকে বিজ্ঞাপন আনতে পারেন এবং প্রতিটি বিজ্ঞাপন এর জন্য কম করে হলেও তিন হাজার টাকা ধার্য করলে প্রতিমাসে তিরিশ হাজার টাকা করে ইনকাম আসা স্বাভাবিক ব্যাপারে পরিণত হবে। আপনি বিশ্বাস করুন বা নাই বা করুন অনলাইন সেক্টরে এটাই বাস্তবতা।

ধরে নিন, আপনি বিজ্ঞাপন আনতে পারলেন না আপনার ওয়েবসাইট এর জন্য তাহলে এবার কি হবে?

এই প্রশ্ন আপনার মনে আসা স্বাভাবিক ব্যাপার। এবার চলে আসি বিজ্ঞাপন ছাড়াই কিভাবে ইনকাম করতে পারবেন। যদি আপনার ওয়েবসাইট টিতে আপনি নিয়মিত ভাবে কাজ করে যান আর প্রতিদিন আপনার ওয়েবসাইট এর মধ্যে ভিসিটর আসতেই থাকে তাহলে আর দেরি না করে সরাসরি গুগল এর স্মরনাপন্ন হয়ে যান।

আপনার ওয়েবসাইট এর সকল তথ্য দিয়ে গুগল অ্যাডসেন্স এর জন্য একটি এপ্লিকেশন করে ফেলুন। সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গুগলে এপ্লাই করতে পারলে আপনি সর্বোচ এক মাসের মধ্যেই গুগল অ্যাডসেন্স এর এপ্রোভাল পেয়ে যাবেন এবং আপনার ওয়েবসাইট থাকে ইনকাম আসা শুরু হয়ে যাবে। তবে এই ক্ষেত্রে আমি আপনাকে আপনার ওয়েবসাইট থেকে সর্ব নিম্ন কত টাকা ইনকাম হতে পারে সেটা সঠিক ভাবে বলতে পারিনা। কারণ, গুগল অ্যাডসেন্স এর অনেক ক্যাটাগরি কন্ডিশন মিলিয়েই এই ইনকাম টি আসবে। সেটা নিয়ে কথা বলতে গেলে আরো দুই ঘন্টা আলোচনার প্রয়োজন।

আজকে আমরা একটি পদ্বতির মাধ্যমে কিভাবে ইনকাম করেত হয় তা জানলাম। পরে বাকি আরো দুটি পদ্বতি দিয়ে কিভাবে ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম জেনারেট করতে হয় তা জানতে পারবেন। আজকের এই সংক্ষিপ্ত আলোচনা থেকে আপনাদের কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করে জানাবেন। আমি উত্তর দেওয়া চেষ্টা করবো।

ধন্যবাদ সবাইকে ভালো থাকবেন।

Leave a comment

Your email address will not be published.